গর্ভবতী হলে কি কি করতে হবে-(গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা)

প্রথমবার গর্ভবতী হওয়ার পর কি কি করণীয় থাকে :একজন নারীর গর্ভবতী থাকা অবস্থায় অত্যন্ত পরিমাণে যত্নের প্রয়োজন হয়। তবে আমরা অনেকেই জানিনা গর্ভবতী অবস্থায় কখন কি করতে হবে। একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য ক্ষতিকর সেগুলো হলো: অতিরিক্ত টেনশন, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, আবেগ ইত্যাদি একজন গর্ভবতী মা ও শিশুর উভয়ের জন্য ক্ষতিকারক। গর্ভবতী মায়ের জন্য এই বিষয়গুলা এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। মা ও শিশু উভয়ের শারীরিক সুস্থতার জন্য পানি শূন্যতা দূর করা জরুরি এবং স্বাভাবিক এর চেয়ে অধিক পরিমাণে পানি পান করা উচিত। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভবতী মা কে ওষুধ সেবন করতে হবে । চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন রকম ওষুধ সেবন করা যাবে না এতে মা ও শিশু উভয়েই ঝুঁকিয়ে তে পড়তে পারেন।

  কোন বিষয়গুলা গর্ভবতী মায়েদের করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং করণীয়:

১. চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া: প্রেগনেন্সি পরিকল্পনাকাল অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রত্যেক মাসে একবার করে দেখা করেন। গর্ভবতী অবস্থাতে খুবই সাবধানে চলাফেরা করতে হবে। এবং খাওয়া-দাওয়ার দিকে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন যাতে মা ও শিশু হয়ে সুস্থ থাকে। প্রত্যেক মাসে গাইনোকোলজিস্ট দেখানো খুবই দরকার। মা ও শিশু উভয়ের সুস্থ থাকবে। এই বিষয়গুলোকে অবহেলা করবেন না।

২. টিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ: গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অবশ্যই টিকা দিবেন। শারীরিক এবং মানসিক উপকৃত হবেন। শিশু কষ্ট পাঠানো এবং ফ্লু রোগের থেকে ভালো থাকবে। টিকা দিলে গর্ভাবস্থাতেও আপনার কোন সমস্যা হবে না। মা ও শিশু উভয়ই সুস্থ থাকবে।

৩. ঘুম: গর্ভাবস্থায় অবস্থায় দিন দুই ঘণ্টা ঘুমাতে হবে এবং রাতে আট ঘন্টা ঘুমানো আবশ্যক। ঘুম এবং বিশ্রাম খুবই জরুরী এবং শোয়ার সময় বাঁ কাত হয়ে শোয়া ভালো।

৪. ভ্রমণ: গর্ভবতী অবস্থায় উঁচু নিচু স্থানে গাড়িতে ভ্রমণ করা উচিত নয় এতে মা ও শিশু উভয়ে ক্ষতি হতে পারে রক্তচাপের মাধ্যমে। গর্ভবতী অবস্থাতে সকালে ও বিকেলে মনোরম পরিবেশে মায়েদের জন্য ভালো এতে শরীর ও মন প্রফুল্ল থাকে। যেমন: ফুলবাগান, লেগের পাড়, পার ইত্যাদি এসব জায়গায় নিয়ে যাওয়া উচিত।

৫. গর্ভাবস্থার দিন হিসাব করা: গর্ভাবস্থায় দিনগুলি হিসাব করে রাখার জরুরি এবং কোন মাসে ডেলিভারি হবে তা চানা জরুরি। এজন্য গর্ভাবস্থায় তিন ভাগে বিভক্ত করুন যেমন ৩+৩+৩=৯ মাস । প্রথম তিন মাস হরমোনগত সমস্যা পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। ঋতুস্রাব চক্রের শেষের দিকে ডেলিভারির তারিখ পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চল্লিশ সপ্তাহের মধ্যে ডেলিভারির তারিখ পড়বে।

৬. গর্ভাবস্থায় যেসব খাবার খাবে: গর্ভবতী অবস্থায় যদি আপনার শরীরের ওজন প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয় তাহলে অল্প পরিমানে ক্যালরি এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। যেমন: দেহের ভিটামিন, ক্যালসিয়াম এবং ক্যালরি ঘাটকে থাকে তাহলে আপনি অধিক পরিমাণে খাবার খাবেন। সঠিক পরিমাণে খাবার খাবেন যাতে আপনার শিশু সুস্থ থাকে। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত খাবার থেকে বিরত থাকুন।

৭. শারীরিক পরিমিত হালকা কাজ করতে হবে: গর্ভাবস্থায় শারীরিক ব্যায়াম, হাঁটা চলা করা প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় শুয়ে বসে না থেকে ছোট ছোট কাজ করা যেতে পারে। বেশি ভারী কাজ না করা ভালো এবং বেশি ভারী ব্যায়াম করা যাবে না। এতে রক্তচাপ হতে পারে এবং মা ও শিশুর দুজনেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বেশি ভারী কোন কাজ এবং ভারী ব্যায়াম থেকে দূরে থাকা উচিত গর্ভাবস্থায়। তবে ছোট ছোট কাজ করলে ক্ষতি হবে না। অনেক সময় দেখা যায় গর্ব অবস্থায় মায়েদের পা ফুলে গিয়েছে এতে মায়েরা একটু হাঁটাচলা করলে ভালো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button